ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬, ৫ ভাদ্র ১৪৩৩

৩৫ বছর পর ভোটে আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

৩৫ বছর পর ভোটে আজ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্ট: ৩৫ বছর পর ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত প্রকাশ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন এই নির্বাচনের ভোটার ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। সংসদে সংখ্যারিষ্ঠতা থাকায় সরকারি দল বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। নিশ্চিত পরাজয় জেনেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদকে প্রার্থী মনোনীত করে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ভোটগ্রহণ শেষে আজই ফল ঘোষণা ও গেজেট প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করবেন দেশের ২৩তম নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি।

ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিন বলেন, আমরা আশা করছি, আমাদের এই ঐতিহাসিক নির্বাচন অত্যন্ত সুন্দর, সুচারু ও সুষ্ঠুভাবে করতে পারব। এই প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি। আমাদের প্রস্তুতিতে যত রকমের অল কনসিভেবল ডাইমেনশন থাকতে পারে, সব কভারড ইন আওয়ার প্রিপারেশন ফর দিস ইলেকশন। যত রকমের ডাইমেনশন থাকতে পারে, আমরা সেগুলো বিবেচনায় নিয়েছি।

সিইসি বলেন, ভোট ২টা থেকে ৫টা পর্যন্ত হবে। ভোটের পরে আমরা তাৎক্ষণিক গণনা শুরু করব। পরে রেজাল্ট আমি ঘোষণা করব, নির্বাচনী কর্তা হিসেবে হবে সেটাই ফাইনাল। পরে আমরা এখানে (নির্বাচন কমিশন) এসে ওইদিনই গেজেট করে দেব। আমাদের কিছু সহায়ক কর্মকর্তা থাকবেন। আমরা ২০ জনের একটি তালিকা দিয়েছি সংসদ সচিবালয়ে। আমরা আবার এখানে সংসদ সচিবালয়ের সহায়তা নেব।

নির্বাচন কর্তা বলেন, গণনার সময় আমাদের সংসদ সদস্যরা যেহেতু ভোটার, তারা উপস্থিত থাকতে পারবেন। উনার ভোটটা দিয়ে যে উনাকে চলে যেতে হবে, এমন না। গণনার সময়ও তারা থাকতে পারবেন। ইটস এ ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথড। ভেরি ট্রান্সপারেন্ট মেথড। সুতরাং এখানে কারও কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়। উনারা থাকতে পারবেন।

সিইসি বলেন, ঘোষণার সময়, যখন কাউন্টিং শেষ হয়ে যাবে, তখন সিইসি, নির্বাচনী কর্তা হিসেবে, যে রেজাল্টটা এনাউন্স করবেন, সবার সামনে এনাউন্স করবেন। আমারা ব্যালট কয়টা প্রিন্ট করেছি, কয়টা ব্যালট ইউজ হয়েছে, কয়টা ব্যালট সারপ্লাস রইলো, কতটা অবশিষ্ট রইলো, কয়টা ব্যালট বাতিল হলো কতটা নষ্ট হলো—এগুলো সব বিস্তারিত বলা হবে। কতটা ব্যালট ইউজ হলো এবং ইউজড ব্যালটের মধ্যে কে কত ভোট পেল, যে ক্যান্ডিডেটদের মধ্যে কে কত ভোট পেল—এটার সংখ্যাগুলো সব বিস্তারিত এনাউন্স করে দেব। যিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট, মেজরিটি ভোট পাবেন, তিনি বিজয়ী হবেন। বিজয়ীর নাম ঘোষণা করে দেব।

কোন সদস্য কাকে ভোট দিয়েছেন, সেটা কি প্রকাশ করবেন কিনা জানতে চাইলে সিইসি বলেন, ওটা আমি ঘোষণা করবো না। কিন্তু এটা ওপেন। আমাদের নরমাল ইলেকশনে কি আপনারা দেখতে পারবেন কে কাকে ভোট দিল? সুতরাং এটা ওপেন। আপনার ব্যালটের মধ্যে যিনি ভোটার, তার নাম আছে। এখন যাকে ভোট দিলেন, তার নাম আছে। তাহলে এর চাইতে আর কী? আমার আর গুনে গুনে যে উনি অমুককে ভোট দিয়েছেন, এটা বলার তো দরকার নেই।

এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ভোটের আগেরদিন বুধবার বিকালে সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদীয় দলের সভা শেষে চিফ হুইপ বলেন, ৩৫ বছর পর বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে একাধিক প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। দেশের মানুষ আবার প্রত্যক্ষ করবে কীভাবে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।

ভোটের কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন শুরুর পাঁচ মিনিট আগে সম্প্রচার শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি, স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা এবং রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ভোট দেওয়ার দৃশ্য সরাসরি দেখানো হবে।

এরপর ভোটগ্রহণের কার্যক্রম রেকর্ড করা হবে জানিয়ে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে আবার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। ফলাফল ঘোষণাও সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। আপনারা দেখবেন, আগামীকালকে একটা ইতিহাসের মাহেন্দ্রক্ষণ তৈরি হবে, ইতিহাসের গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হবে।

চিফ হুইপ বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রার্থী ডক্টর অলি আহমেদ, আরেকজন হল আমাদের মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেব। ভোট হবে। এ দেশের মানুষ ভোট কীভাবে দেয়, সেটা আবার প্রত্যক্ষ করবে দেশের মানুষ। ইনশাল্লাহ আমরা নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে পারব। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নতুন যাত্রা শুরু হবে বলেও মন্তব্য করেন চিফ হুইপ।

তিনি বলেন, সরকার এবং বিরোধী দল ইনক্লুসিভ হয়ে দেশকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং দেশের অগ্রগতিকে অব্যাহত রাখতে চাই।

সর্বশেষ ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সংসদে রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। এবার দুইজন প্রার্থী থাকায় এবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটাভুটি হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, কেবল সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন। সে হিসেবে এবার ভোটার আছেন ৩৪৯ জন। এরমধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন, জামায়াতের ৭৭ জন। দল মনোনীত প্রার্থীর বাইরে ভোট দেওয়ার সুযোগ নেই সংসদ সদস্যদের।

জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ব্যালট পেপার হবে সাদা রঙের ওপর কালো প্রিন্ট। ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবেÑ একটি মুড়ি অংশ এবং অন্যটি মূল ব্যালট অংশ। মুড়ি অংশে থাকবে ক্রমিক নম্বর, ভোট প্রদানকারী সংসদ সদস্যের নাম এবং বিভক্তি নম্বর। এর নিচে থাকা নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্য পূর্ণ নাম ও স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। মূল ব্যালট অংশে বাংলা বর্ণমালার আদ্যক্ষর অনুযায়ী প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থীর নাম ছাপা থাকবে। প্রার্থীদের নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে সংসদ সদস্যরা স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন। এরপর অধিবেশন কক্ষেই নির্ধারিত ব্যালট বাক্সে ব্যালট জমা দিতে হবে।

গত ২৪ জুলাই বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন। এরপর থেকে সংবিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এ সময় স্পিকারের দায়িত্ব পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হওয়ার পরবর্তী ৯০ দিনে ভোট করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত