রাজধানী সহ সারা দেশে জ্বালানি তেলের সংকট প্রকট হয়েই চলছে। ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী। পেট্রল পাম্পে জালানি তেল নিতে দীর্ঘ লাইন হয়ে যাচ্ছে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য গাড়ির। এসব যানবাহন চালকদের অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেও জালানি মিলছে না অনেক সময়ই। একশ্রেণির বাইক রাইডার এ পরিস্থিতি কাজে লাগিয়ে খোলাবাজারে বাড়তি দামে জালানি তেল বিক্রি করছে, ভারী করছে নিজেদের পকেট।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে দীর্ঘ লাইনের চিত্র দেখা যাচ্ছে, যা দিন দিন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। অথচ হাজারীবাগ, রায়েরবাজার, শিকদার পাম্পসংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের বাঁশবাড়ি ও আদাবর এবং পূর্ব রামপুরাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় সহজেই মিলছে খোলা তেল। পাম্পে যেখানে ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করেও তেল পাওয়া কঠিন, সেখানে এসব স্থানে মাত্র কয়েক মিনিটেই ট্যাংক ভর্তি করে নেওয়া যাচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, এই তেলের উৎস কোথায়? অনুসন্ধানে জানা গেছে, কিছু অসাধু রাইড-শেয়ার চালক পাম্পে একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করে তা খোলাবাজারে বিক্রি করছেন। কেউ কেউ দিনে দুইবার ভিন্ন পাম্পে লাইনে দাঁড়িয়ে ৬ থেকে ৮ লিটার পর্যন্ত তেল নিচ্ছেন। পরে লিটারপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা বেশি দামে তা বিক্রি করছেন। এতে প্রতিদিন তাদের আয় হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা।
রাজধানীর বিভিন্ন পাম্পে দেখা গেছে, ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ালেই তেল পাওয়া যাচ্ছে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে অনেক রাইডার যাত্রী পরিবহন না করে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ ও বিক্রির কাজে যুক্ত হচ্ছেন। ফলে প্রকৃত রাইড-শেয়ার চালকরা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি সাধারণ গ্রাহকদের ভোগান্তিও বাড়ছে।
বর্তমানে খোলাবাজারে প্রতি লিটার তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকায়। সময় বাঁচাতে বাধ্য হয়ে অনেকেই এই অতিরিক্ত দামে তেল কিনছেন। বিশেষ করে অফিসগামী ব্যক্তি, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর চাহিদা বেশি দেখা যাচ্ছে। অনেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা এড়াতে বেশি দাম দিয়েই তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে তেলের অভাবে প্রায়ই মাঝপথে থেমে যাচ্ছে মোটরসাইকেল; ফলে চালকদের ঠেলে পাম্প পর্যন্ত নিতে হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু রাইডার সহায়তার হাত বাড়ালেও সেই সহায়তার আড়ালে অতিরিক্ত মূল্যে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। খামারবাড়ি এলাকায় এক বাইকচালক বলেন, ‘তেল না পেলে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ ধাক্কা দিতে হতো, তাই বাধ্য হয়ে ২৫০ টাকা দিয়ে ১ লিটার তেল কিনেছি।’ এই বাড়তি দামকে ‘ন্যায্য পাওনা’ বলে দাবি করেছেন বিক্রেতা।
অন্যদিকে পাম্পের লাইনে দাঁড়ানো অনেক মোটরসাইকেলে আগেই আংশিক তেল থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে। কারণ জানতে চাইলে কেউ বলছেন, বাড়িতে আরেকটি বাইকের জন্য নিচ্ছেন, কেউ বলছেন, সামনের কয়েকদিন নির্বিঘ্নে চলার জন্য নিয়ে রাখছেন।
সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি এই অনিয়ন্ত্রিত খোলাবাজার ও অসাধু ব্যবসার কারণেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। এক্ষেত্রে রয়েছে তদারকির অভাব এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে পাম্পভিত্তিক নজরদারি জোরদার, খোলাবাজারে অবৈধ বিক্রি বন্ধ এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা জরুরি। সরকারের চালু করা ফুয়েল পাম্প অ্যাপটি সব পাম্পে বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এবং ব্যবহারজনিত ভোগান্তি দূর করা গেলে সংকট কিছুটা লাঘব হতে পারে।
।।সংগৃহীত।।