ঢাকা সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬, ২৯ পৌষ ১৪৩২

খালেদা জিয়ায় নির্ভার বিএনপি, লড়াই করতে চায় জামায়াত

খালেদা জিয়ায় নির্ভার বিএনপি, লড়াই করতে চায় জামায়াত

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্ট: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দিনাজপুরের রাজনীতিতে স্পষ্ট হয়ে উঠছে ভিন্ন দুই কৌশল। একদিকে দিনাজপুর সদর আসনে দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে প্রার্থী করে বিএনপি আত্মবিশ্বাসী ও অনেকটাই নির্ভার। দলটির নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, ঐতিহাসিক ভোটভিত্তি এবং আবেগি সংযোগ এই জেলায় বিএনপিকে শক্ত অবস্থানে রাখবে। অন্যদিকে এই আত্মবিশ্বাসের বিপরীতে মাঠে সংগঠিত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। সাংগঠনিক শক্তি, নিয়মিত প্রচারণা ও ভোটের হিসাব-নিকাশে ভর করে তাঁরা প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলতে চায়। পাশাপাশি এনসিপি ও অন্যান্য ইসলামী দলের উপস্থিতি ভোটের সমীকরণে আলাদা গুরুত্ব থাকছে। সব মিলিয়ে দিনাজপুরে নির্বাচন কেবল জনপ্রিয়তার পরীক্ষা নয়, বরং কৌশল, সংগঠন ও ভোট ব্যবস্থাপনার এক কঠিন প্রতিযোগিতার রূপ নিচ্ছে।

দিনাজপুর-১ (বীরগঞ্জ-কাহারোল) আসনে দিন দিন নির্বাচনী উত্তাপ-উত্তেজনা বেড়েই চলছে। ভোটযুদ্ধে অংশ নিতে এরই মধ্যে প্রার্থীরা আটঘাঁট বেঁধে মাঠে নেমেছেন। চলছে রাজনৈতিক সচেতন মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ। বিএনপির কোন্দল থাকায় জামায়াত জোরেশোরে প্রচার চালাচ্ছে। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন আলহাজ মঞ্জুরুল ইসলাম।

দলে দলে বিভক্ত হয়ে উঠান বৈঠক, সেমিনারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। তবে বিরোধিতাও রয়েছে বঞ্চিত প্রার্থীদেরও। এই আসনে অন্য দলের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হিসেবে অ্যাডভোকেট চাঁন মিয়া, খেলাফত মজলিসের অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসেনের নাম ঘোষণা করা হয়েছে এবং তাঁরা মাঠে কাজ করছেন।

এদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর উত্তরের মজলিসের সুরার সদস্য মতিউর রহমান। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১১ হাজার ৭৪৩ জন।

দিনাজপুর-২ (বিরল-বোচাগঞ্জ) : এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন সাদিক রিয়াজ পিনাক চৌধুরী। তিনি বোচাগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি। এর আগেও সাদিক রিয়াজ পিনাক বিএনপি থেকে ২০১৮ সালে মনোনয়ন পেয়েছিলেন।

এ আসনের জেলা জামায়াতে ইসলামীর ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও বিরল উপজেলার সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মাওলানা একেএম আফজালুল আনাম প্রার্থী হয়েছেন।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন জেলা শাখার সংখ্যালঘুবিষয়ক সম্পাদক হাবিবুর রহমান ও খেলাফত মজলিস জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা জোবায়ের সাঈদও নির্বাচনী মাঠে তৎপর। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৬৬ হাজার ২০৬ জন।

দিনাজপুর-৩ (সদর) : এ আসন থেকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করবেন। খালেদা জিয়ার পৈতৃক ভিটা এই শহরে। তাঁর বাবা-মাসহ স্বজনদের কবরও রয়েছে এখানে। রয়েছে বিএনপি চেয়ারপারসনের নানান স্মৃতি।

জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোফাজ্জল বলেন, খালেদা জিয়ার বিজয় সুনিশ্চিত। দেশের সর্বোচ্চ ভোটে তিনি জয়লাভ করবেন। এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হয়েছেন অ্যাডভোকেট মইনুল ইসলাম। এনসিপির প্রার্থী শামসুল আলম মোকতাদীরও মাঠে আছেন।

এ আসনে অন্যদলও প্রার্থী দিয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের জেলা সেক্রেটারি মুফতি মুহাম্মাদ খাইরজ্জামান, খেলাফত মজলিস জেলা শাখার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা রেজাউল করিম। আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১১ হাজার চারজন।

দিনাজপুর-৪ (চিরিরবন্দর-খানসামা) : বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান মিয়া। এখানে জামায়াতের প্রার্থী হয়েছেন জেলা শাখার সাবেক আমির, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ও চিরিরবন্দর উপজেলা পরিষদের দুইবারের সাবেক চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দীন মোল্লা।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন জেলা শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা আনোয়ার হোসেন নদভী। এ আসনে ৪ লাখ ১৬ হাজার ৪১ জন ভোটার রয়েছেন।

দিনাজপুর-৫ (পার্বতীপুর-ফুলবাড়ী) : গুরুত্বপূর্ণ দুই উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনটি বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এই দুর্গ কবজায় রাখতে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন ব্যারিস্টার কামরুজ্জামান। এদিকে পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ সদস্য এজেডএম রেজওয়ানুল হক মনোনয়ন লাভে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

এ আসনে জামায়াতের একক প্রার্থী জেলা কর্মপরিষদ সদস্য ও পার্বতীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা কমিটির সদস্য আবু সায়েম মিন্টু, এনসিপি থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ডা. আবদুল আহাদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সহ-সভাপতি লিয়াকত আলী। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৭১ হাজার ২২০ জন।

দিনাজপুর-৬ (বিরামপুর, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ) : চার উপজেলা নিয়ে গঠিত জেলার বৃহত্তম এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতারা দুইবার জয় পেয়েছিলেন। তবে এবার ভোটের সমীকরণ পাল্টে দিতে চান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য চিকিৎসক নেতা ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। তিনি দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যের পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও আস্থাভাজন।

রাজত্ব ধরে রাখতে জামায়াতের একক প্রার্থী হিসেবে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন জেলা শাখার সাবেক আমির ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম। এবারও তিনি জনসমর্থন পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী।

এ আসনে প্রার্থী দিয়েছেন অন্য ইসলামী দলও। তাদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের দিনাজপুর দক্ষিণ জেলা সভাপতি ডা. নুর আলম সিদ্দিক, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস জেলা শাখার সহ-সভাপতি মুফতি নুরুল করিম ও এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার সানী আবদুল হক উল্লেখযোগ্য। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৭০ হাজার ৭৬৯ জন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত