ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
সংবাদ শিরোনামঃ

নড়াই ও বালু নদীর মোহনায় অবস্থিত দেবধুলাই খাল বাঁচতে চায়; দ্রুত উদ্ধার ও ওয়াটার বাস চালুর দাবি

নড়াই ও বালু নদীর মোহনায় অবস্থিত দেবধুলাই খাল বাঁচতে চায়; দ্রুত উদ্ধার ও ওয়াটার বাস চালুর দাবি

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্ট:  দখল, দূষণ ও অবহেলায় অস্তিত্ব সংকটে নড়াই নদী ও বালু নদীর মোহনায় অবস্থিত দেবধুলাই খাল। একসময়ের প্রবহমান এই জলপথকে দ্রুত উদ্ধার, পুনঃখনন ও দূষণমুক্ত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে খালটির নাব্যতা পুনরুদ্ধার করে নড়াই ও বালু নদীর সঙ্গে কার্যকর নৌ-সংযোগ প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে ওয়াটার বাস চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার পরিবেশসচেতন নাগরিকরা।


স্থানীয় জলপ্রবাহ ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় দেবধুলাই খালের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, সম্ভাব্য অবৈধ দখল, বর্জ্য ও দূষণের কারণে খালটির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে শুধু জলজ পরিবেশ নয়, আশপাশের এলাকার পানি নিষ্কাশন ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এ বিষয়ে বিশিষ্ট পরিবেশ সংরক্ষক মঞ্চের আহ্বায়ক ফজলে রাব্বি সানি সংবাদ লাইভ'কে বলেন,একটি নদী বা খালকে বিচ্ছিন্নভাবে বিবেচনা করে উন্নয়ন পরিকল্পনা করলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। নদী, খাল ও জলাভূমির মধ্যে প্রাকৃতিক সংযোগ বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। দেবধুলাই খালের ক্ষেত্রেও নড়াই ও বালু নদীর সঙ্গে পানির স্বাভাবিক সংযোগ ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।এ জন্য প্রথমে খালের প্রকৃত সীমানা নির্ধারণ, দখল চিহ্নিতকরণ, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে পুনঃখননের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি খালে বর্জ্য ও পয়োনিষ্কাশনের দূষিত পানি প্রবেশ বন্ধ করতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।দেবধুলাই খালকে কেন্দ্র করে নড়াই ও বালু নদীর নৌপথ সচল করা গেলে রাজধানীর বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে নদীপথে যাত্রী পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১৬ আগস্ট প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর চারপাশের প্রায় ১১০ কিলোমিটার নৌপথে বৈদ্যুতিক ওয়াটার বাস চালুর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে সরকার। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, বালু ও ধলেশ্বরী নদীকে ঘিরে নৌ-যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কথা রয়েছে। তবে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে নাব্যতা, দূষণ ও সেতুর উচ্চতাসহ বিভিন্ন অবকাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়েছে।
এ অবস্থায় দেবধুলাই খাল ও নড়াই নদীর নৌ-সংযোগ পুনরুদ্ধার করা গেলে ঢাকার পূর্বাঞ্চলের জন্যও একটি কার্যকর নৌ-পরিবহন করিডর গড়ে তোলার সম্ভাবনা যাচাই করা যেতে পারে।
সেতু ও অবকাঠামো নির্মাণে নৌপথের বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।নদী ও খালের ওপর সেতু, কালভার্ট কিংবা অন্য কোনো অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ নৌযান চলাচলের বিষয়টি অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে। বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত নৌ-চলাচল ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় উচ্চতা-প্রস্থের মানদণ্ড অনুসরণ করা জরুরি। অন্যথায় উন্নয়নের নামে নির্মিত অবকাঠামোই একসময় নৌপথের প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়াতে পারে।

দেবধুলাই খাল উদ্ধারে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, বিআইডব্লিউটিএ, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশন, পরিবেশ অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ নিতে হবে।
খালটির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে জরিপ করে একটি পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার ও পুনরুদ্ধার পরিকল্পনা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ এবং নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
এ বিষয়ে বিশিষ্ট পরিবেশবিদ ও সামাজিক সংগঠন আগামীর বাংলাদেশের আহ্বায়ক আলমগীর পারভেজ সময় সংবাদ লাইভ কে বলেন, শুধু খাল খনন নয়; নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, দখল প্রতিরোধ এবং জনসম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই দেবধুলাই খাল তার হারানো প্রাণ ফিরে পেতে পারে।দেবধুলাই খালকে বাঁচানো মানে শুধু একটি জলপথকে রক্ষা করা নয়; বরং ঢাকার পরিবেশ, পানি নিষ্কাশন, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ নৌ-যোগাযোগের সম্ভাবনাকে রক্ষা করা।তাই সময়ক্ষেপণ না করে দেবধুলাই খাল উদ্ধার, নড়াই ও বালু নদীর সঙ্গে পানির স্বাভাবিক সংযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং পরিবেশবান্ধব ওয়াটার বাস চলাচলের উপযোগী নৌপথ গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত