গত ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ১৪৫ জন শিশুর। পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছে এমন আরও ২৪টি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আসা ১৪ হাজার ৩৮৫ জনের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ৪৬৩ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাওয়া এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, প্রতিঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে ২৬ জন শিশু। আর প্রতি চারঘণ্টায় হাম কিংবা হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাচ্ছে একজন শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্র বলছে, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঢাকায় এবং অপর শিশুটির মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। একই সময়ে সারাদেশে নতুন করে ৮৮৮ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া রোগী পাওয়া গেছে ৮০ জন। এই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে সবচেয়ে বেশি ২৬৮ জন রোগী ভর্তি হয়েছে ঢাকা বিভাগে। আর সবচেয়ে কম ৪ জন ভর্তি হয়েছে রংপুর বিভাগে। পাশাপাশি হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ৪১৩ জন হাসপাতাল থেকে ছুটি পেয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ১৯৬ জন ও চট্টগ্রাম বিভাগে ৬৮ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।
সিলেট সংবাদ-দাতা : সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ দিনে তিন শিশু মারা গেছে। সবশেষ শুক্রবার সিলেটে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়। মারা যাওয়া শিশু বিশ্বজিতের বয়স ৭ মাস। শিশুটির বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলায়। শনিবার সকালে বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয় থেকে পাঠানো সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে ১৯ জনকে হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৩ জন, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ৫ জন এবং সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলা হাসপাতালে একজন।
রাজবাড়ীর পরিস্তিতি : রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছে পাঁচ শিশু। রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এসএমএ হান্নান বলেন, বর্তমানে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ শিশু ভর্তি রয়েছে। ভর্তি হওয়া শিশুরা যাতে অন্য কারও সংস্পর্শে না যায় সেজন্য শিশু ওয়ার্ডের একটি নির্দিষ্ট স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া তাদের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ময়মনসিংহ পরিস্তিতি : হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আরও ২৭ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৭৭ জনে। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) চিকিৎসক মুহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান জানান, ১৭ মার্চ থেকে হাসপাতালে হাম রোগ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত ৩৭১ শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৮৪ শিশু। আর মৃত্যু হয়েছে ১০ শিশুর।
বরগুনার খবর : বরগুনা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, শনিবার হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২০ জন শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১৮৪ জনের মধ্যে ৩৭ জনের শরীরে হামের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া আরও ৭৩ জনের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ২০৭ জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। মারা গেছে তিনজন শিশু।
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি : সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান কর্মকর্তা হুমায়ুন করিব শনিবার সন্ধ্যায় জানান, জেলার হাসপাতাল ও ক্লিনিকে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৭ জন রোগী ভর্তি রয়েছে। জেলায় গত ১৫ দিনে ১০০ জন শিশু এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ৭০ জন।