সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্ট: গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যারিষ্ঠতা পেয়ে দীর্ঘ ২০ বছর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় বসেছে বিএনপি। এ সরকারের আমলে এবার অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এবার প্রথম ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে হবে। সড়ক, রেল ও নৌপথ নির্বিঘ্ন করতে প্রস্তুতি সভা হয়েছে একাধিকবার। ইতোমধ্যে বাস ও ট্রেনের আগাম টিকিট বিক্রি শুরু হয়েছে। গতকাল শেষ হয়েছে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি। এদিন বিক্রি হয়েছে ১৯ মার্চের টিকিট।
বর্তমান সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ ছাড়া দুজন প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে হাবিবুর রশিদকে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্ব এবং মো. রাজিব আহসানকে নৌপরিবহন ও সেতু বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় কোনো বাস কোম্পানি অতিরিক্ত ভাড়া নিলে তার রুট পারমিট বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ ছাড়া বাড়ি ফেরা নির্বিঘ্ন করতে সব ধরনের প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছেন।
এসব বিষয়ে ঈদ সামনে রেখে অনুষ্ঠিত সভায় ২৮টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, একটি স্বস্তির ঈদযাত্রা নিশ্চিত করার জন্য যার যার অবস্থান থেকে যে দায়িত্ব আছে তা পালন করতে সবাই সক্ষম হবেএই প্রত্যাশা আমরা রাখছি। মানুষ একটা স্বস্তির ঈদযাত্রা, নিরাপদ ঈদযাত্রা পেতে যাচ্ছে বলে আমরা নিশ্চিত করছি। মনে রাখা দরকার, ২ থেকে ৩ দিনের মধ্যে দেড় কোটির মতো লোক ঢাকা থেকে ঢাকার বাইরে যাবে। এটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ।
ঈদুল ফিতরকে ঘিরে রাজধানী ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে লাখো মানুষ। প্রতিবছরের মতো এবারও সবচেয়ে বড় চাপ পড়বে মহাসড়কে। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ঘিরে সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ বেশি। ছুটি কম হলে বা শিল্পকারখানায় ধাপে ধাপে ছুটি কার্যকর না হলে একসঙ্গে মানুষের ঢল নামবে সড়কে। তখনই তৈরি হতে পারে বড় ধরনের যানজট। রাজধানী থেকে বের হওয়ার পথে গাবতলী, বাইপাইল, চন্দ্রা, কাঞ্চন ব্রিজ, সায়েদাবাদ, উত্তরা থেকে গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় যানজটের শঙ্কা রয়েছে। তবে সরকারি দপ্তরগুলোর ঈদের প্রস্তুতিমূলক অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
পোশাকশ্রমিকদের পর্যায়ক্রমে ছুটি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও দিন শেষে তা রাখা হয় না। একসঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের ছুটি হওয়ার কারণে চন্দ্রায় বড় ধরনের যানজট সৃষ্টি হয়Ñ এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সড়কমন্ত্রী বলেন, বিআরটিসি থেকে আলাদা বাস ওখানে প্রস্তুত রাখা হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ফিটনেসবিহীন গাড়ি যেগুলো অল্প সময়ের মধ্যে মেরামত করেÑ যাত্রীর প্রচুর চাপ থাকে বলে রাস্তায় তারা চলে আসতে পারছে। এসব ওয়ার্কশপে নজরদারি করা হবে। ফিটনেসবিহীন গাড়ি কোনো অবস্থাতে রাস্তা উঠতে পারবে নাÑ এটা নিশ্চিত করা হয়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য এবং পচনশীল বস্তু ছাড়া অন্যান্য জিনিস খুব গুরুত্বপূর্ণ না হলে ঈদের সময় চলাচল বন্ধ থাকবে।
টোল কালেকশনের জন্য সেতুগুলোতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। টোল কালেকশন দ্রুত করার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়ার চিন্তা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
গতকাল ট্রেনের টিকিট বিক্রির শেষ দিনে উপচে পড়া ভিড় ছিল। ঢাকা থেকে বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেনের মোট আসন ছিল ৩০ হাজার ৩৪৩টি। এর মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের ১৯টি ট্রেনে আসন রয়েছে ১৩ হাজার ৭৭৪টি। আর সারাদেশে সব মিলিয়ে ওই দিনের মোট আসনসংখ্যা এক লাখ ৬১ হাজার ৬৬৫টি।
ঈদে সারাদেশে যানজটের গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাব্য ২০৭টি স্পট চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ হাইওয়ে পুলিশ। যদিও গতবছর এই সংখ্যা ছিল ১৫৯টি। গতবারের চেয়ে এবার যানজটের স্পট বেড়েছে ৪৮টি। এবার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আছে ১৪টি, ঢাকা-টাঙ্গাইল-রংপুর মহাসড়কে ৫৫টি, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ২১টি, ঢাকা- সিলেট মহাসড়কে ৪৩টি, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৪৫টি, ঢাকা-কক্সবাজার মহাসড়কে ৯টি, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে ১৪টি, যশোর-খুলনা মহাসড়কে ৬টি। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঢাকার পাঁচটি টার্মিনালে সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে। পদ্মা ও যমুনা সেতু এবং কর্ণফুলী টানেলে ইটিসি টোল বুথ চালু থাকবে। ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত মহাসড়কে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান চলাচল বন্ধ রাখা হবে। যাত্রী পারাপারে পর্যাপ্ত ফেরির ব্যবস্থা রাখা হবে এবং রাজধানীর কাঞ্চন ব্রিজ ও বসিলা এলাকায় লঞ্চ চলাচলের ব্যবস্থাও করা হবে।
তথ্যমতে, পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলগামী যানবাহনের জন্য সায়েদাবাদ, ধোলাইপাড় ও পোস্তগোলা এলাকায় বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে এক্সপ্রেসওয়ে টোল প্লাজায় জটের শঙ্কা রয়েছে। তাছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কাঁচপুরের পূর্ব ঢাল, মদনপুর ও সাইনবোর্ড এলাকায় যানজটের আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে কাঁচপুর ব্রিজের পশ্চিম ঢাল, তারাবো, ডেমরা ও ভুলতা এলাকায় যানজটের শঙ্কা রয়েছে। চার লেন করার উন্নয়নকাজ চলায় বিভিন্ন অংশে সড়কের অবস্থা নাজুক। নরসিংদীর সাহেবপ্রতাপ বাজার, ভোলানগর ও হটখোলা এলাকায় সেতু নির্মাণকাজ চলছে। এসব স্থানে স্থানীয় যানবাহন ও কাউন্টারের কারণে চাপ বাড়ে। ভৈরব বাজার, হবিগঞ্জের মাধবপুর ও শায়েস্তাগঞ্জ গোলচত্বরে একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাছাড়া ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যেতে বাইপাইল এলাকায় আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ চলায় নিচের সড়ক সরু হয়ে গেছে। চন্দ্রা মোড়ে বিভিন্ন দিকের গাড়ি একত্র হওয়ায় সেখানে জটের ঝুঁকি থাকে। টঙ্গী, গাজীপুর ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চল থেকে শ্রমিকরা একসঙ্গে বের হলে চাপ আরও বাড়তে পারে।
ঈদ প্রস্তুতি পরিদর্শনে গতকাল যমুনা সেতু এলাকা পরিদর্শন করেন সেতু বিভাগের সচিব আব্দুর রউফ। এ সময় তিনি এলেঙ্গাতে নবনির্মিত বাস-বে এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করেন। মহাসড়কে যত্রতত্র বাস থামিয়ে যানজট সৃষ্টি রোধ এবং যাত্রীদের নিরাপদ ওঠানামা নিশ্চিত করতে এই বাস-বে ছাড়া অন্য কোথাও গাড়ি না থামানোর জন্য সংশ্লিষ্ট গাড়ির চালকদের অনুরোধ করেন সেতুসচিব।