ঢাকা বৃহঃস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
সংবাদ শিরোনামঃ

ভোটগ্রহণের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা, সংলাপ স্থগিত

ভোটগ্রহণের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা, সংলাপ স্থগিত

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্ট: স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিলেও ভোটগ্রহণের সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী আগামী নভেম্বরে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা করলেও আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা শেষে সেখান থেকে পিছু হটেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে পূর্বনির্ধারিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক বাতিলের পর এবার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্ধারিত সংলাপ স্থগিত করেছে ইসি। তবে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চলতি অর্থবছরের কেনাকাটা পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ১৩২ কোটি টাকার বেশি ব্যয়ে গাড়ি, ব্যালট বক্সের তালা, নির্বাচনী সামগ্রীসহ বিভিন্ন পণ্য কেনার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, নিরাপত্তা, জনসচেতনতা ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবায়ও অর্থ ব্যয় করবে ইসি। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আমরা একটা পরিকল্পনা করেছিলাম। ১২ নভেম্বর ভোট শুরু হচ্ছে না— এটা নিশ্চিত। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর শেষ ধাপের ভোটের বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে ৬ জুনের মধ্যে করতে। কিন্তু কবে ভোট শুরু করব সেজন্য পরীক্ষা সংক্রান্ত আরও তথ্য-উপাত্ত দিতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, নির্বাচন হবে, এটা নিশ্চিত। সেটা যেকোনো সময়ই হতে পারে। এ জন্য প্রস্তুতি রাখতে হবে। ইতোমধ্যে প্রায় সব প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে।ইসির বাজেট শাখার কর্মকর্তারা জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনায় বিভিন্ন পণ্য ও সেবা কেনার জন্য মোট প্রায় ১৩২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে অনুমোদন হয়েছে।ইসির সচিব স্বাক্ষরিত বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী, টেলিযোগাযোগ সরঞ্জাম কেনা ও মেরামতে ১৭ লাখ টাকা, পোশাক খাতে ৮ লাখ, আপ্যায়নে ৪৫ লাখ, ডাক বিল বাবদ ১ লাখ ৫০ হাজার, টেলিফোন বিল বাবদ ২০ লাখ, মনিহারি পণ্য কেনায় ৩৫ লাখ, অন্যান্য পণ্যে ৪৫ লাখ এবং প্রিন্টারের কালি বা টোনারে ৬৭ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া কম্পিউটার সরঞ্জামাদিতে ৮ লাখ, ইলেকট্রনিক পণ্যে ৪০ লাখ, কম্পিউটার ও অন্য যন্ত্রপাতিতে ১ কোটি, অফিস সরঞ্জামাদিতে ৫১ লাখ ৭১ হাজার, আসবাবপত্রে ৭০ লাখ, উপহারসামগ্রীতে ৫ লাখ ২৫ হাজার, বাগান পরিচর্যায় ৭ লাখ ৯০ হাজার এবং স্ট্যাম্প ও সিলে ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অনাবাসিক ভবন মেরামতে ১ কোটি ৭৫ লাখ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাপনায় ১ কোটি ৬০ লাখ, আসবাবপত্র মেরামতে ৩ লাখ ২০ হাজার, অফিস সরঞ্জামাদি মেরামতে ৫ লাখ ২৫ হাজার, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ৫২ লাখ ৫০ হাজার, আউটসোর্সিং জনবলে ২ কোটি এবং নিরাপত্তাসেবা কিনতে ১১ কোটি ৪৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা ধরা হয়েছে।এ ছাড়া মোটরসাইকেলসহ মোট ৬৬টি গাড়ি কিনতে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যমান বিভিন্ন গাড়ির চাকা, ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি কিনতে ৪০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। বিভিন্ন ইভেন্ট, সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা।নির্বাচনী সামগ্রী কেনার ক্ষেত্রে ১০ হাজার ১০০টি সিল করার মোম কিনতে ২০ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং ব্যালট বক্সের ২১ লাখ ৫০ হাজার তালা কিনতে ৮৬ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ৪ লাখ ১০ হাজার কালির প্যাড কিনতে ২ কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার, ৪ লাখ ১০ হাজার অমোচনীয় কালির কলম কিনতে ৩ কোটি ১৫ লাখ ৫৭ হাজার, ৩ লাখ ৬০ হাজার অফিসিয়াল সিল কিনতে ৬০ লাখ ৮৪ হাজার এবং ৭ লাখ ২০ হাজার মার্কিং সিল কিনতে ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। ৫১ হাজার ব্রাস সিলে ১৫ লাখ ৮০ হাজার, চটের ৭৩ হাজার ব্যাগ কিনতে ৯৫ লাখ ৬০ হাজার, ছোট-বড় ৬৮ হাজার হেসিয়ান ব্যাগ কিনতে ২৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা রাখা হয়েছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের জন্য ৯ লাখ ২৯ হাজার ৫০০টি ম্যানুয়াল ছাপাতে ৮ কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের জন্য ৭ লাখ ১৫ হাজার, গাইডলাইন বই তৈরিতে ৩ কোটি ৯৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। বিজি প্রেসে বিভিন্ন ধরনের ১ লাখ ৭০ হাজার মুদ্রণকাজে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫ কোটি ৭৬ লাখ ৬০ হাজার টাকা। ইসির তথ্যপ্রযুক্তি-সংশ্লিষ্ট কয়েকটি শাখার ক্রয় পরিকল্পনায় মোট প্রায় ২৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ের হিসাব রয়েছে।এর মধ্যে আইসিটি উইংয়ে ইসির ওয়েবসাইট ও ওয়েবসাইটগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে ৭২ লাখ, বিদ্যমান ইসিএস সিস্টেমের সার্ভার ও স্টোরেজ উন্নয়নে ১ কোটি এবং সিসিটিভি সংগ্রহে ৪০ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। অ্যাপ্লিকেশন সার্ভার, ব্যাকআপ স্টোরেজ ও ভিএম ইসিএস সিস্টেমের রক্ষণাবেক্ষণে ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা এবং অনলাইন মনোনয়ন ব্যবস্থাপনা ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা সিস্টেমের উন্নয়নে ২ কোটি ৭২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে। জিআইএস সফটওয়্যারের লাইসেন্সে ৩ কোটি, জিআইএসের জন্য সার্ভার, জিপিইউ ও ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ হার্ডওয়্যারে ২ কোটি ২৮ লাখ ৮০ হাজার এবং আইসিটি নিরাপত্তা নিরীক্ষা ও ভিএপিটি সেবায় ২ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। আইসিটি সিস্টেম সাপোর্ট শাখায় ডেটা সেন্টারের রক্ষণাবেক্ষণে ২ কোটি ৩০ লাখ, আইসিটি সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণে ২০ লাখ, অ্যান্টিভাইরাস, নেটওয়ার্ক ডিভাইস লাইসেন্সিং ও সহায়তায় ২ কোটি ৮০ লাখ, ভিপিএন স্থাপন ও টিবিএল ব্যবহারে ২০ লাখ এবং নেটওয়ার্ক সরঞ্জাম সরবরাহ ও স্থাপনে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ধরা হয়েছে। এ খাতে মোট ব্যয় প্রায় ৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। ইসির জনসংযোগ শাখায় বিভিন্ন প্রচার ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে প্রায় ১০ কোটি ৮ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট কাজে কম্পিউটার সফটওয়্যার, ডার্ক ওয়েব মনিটরিং টুলস, সফটওয়্যার, মোবাইল অ্যাপ তৈরিসহ সব মিলিয়ে এনআইডি উইংয়ের ক্রয় পরিকল্পনায় প্রায় ৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন এই বরাদ্দ দিয়ে করা সম্ভব হবে না। কারণ, এটি মূলত ইসির কেনাকাটা ও নিজস্ব খরচের জন্য বরাদ্দ। নির্বাচনের সময় এর বাইরে আরও বিভিন্ন খরচ যুক্ত হবে।এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপলক্ষে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পূর্বঘোষিত সংলাপ আপাতত স্থগিত করেছে ইসি। গতকাল মঙ্গলবার ইসির জনসংযোগ শাখার পরিচালক মো. আব্দুল মমিন সরকার জানিয়েছেন, আপাতত দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ স্থগিত করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে নির্দেশনা পাওয়া গেলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আজ ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ৩ দিন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ আয়োজনের কথা ছিল। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বও পূর্বনির্ধারিত আইনশৃঙ্খরা রক্ষাকারী বাহিনীর বৈঠক স্থগিত করেছে ইসি।চলতি মাসেই তফসিল ঘোষণা করে আগামী নভেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা ছিল নির্বাচন কমিশনের। তবে পরীক্ষা এবং অন্যান্য সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নভেম্বরে ভোটগ্রহণ নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আপত্তি তৈরি হওয়ায় নির্বাচন নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে ইসিকে। সেক্ষেত্রে আগামী জানুয়ারি কিংবা মে মাসে ইউপি নির্বাচন আয়োজনের নতুন পরিকল্পনা করছে ইসি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত