সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্ট: আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জামায়াতের আর্দশিক প্রচারণায় কারও বাধা দেওয়ার এখতিয়ার নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘কেউ যদি পায়ে পাড়া দিয়ে আমাদের সঙ্গে ঝগড়া করতে আসে, তবে আমরাও ছেড়ে দেবো না। আমাদেরকে জুজুর ভয় দেখিয়ে লাভ নেই।’
আজ মঙ্গলবার সকালে যশোরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে জেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
জামায়াত আমির বলেন, ‘যারা নির্বাচনে জেতার আগেই মা-বোনের গায়ে হাত দেয় এবং বিরোধী মত দমনে কঠোর হয়, তারা জিতলে দেশ কতটা নিরাপদ থাকবে সেই প্রশ্ন রয়েই যায়।’
তিনি বলেন, ‘একদিকে ফ্যামিলি কার্ড, অন্যদিকে মা-বোনদের গায়ে হাত চলতে পারে না। জামায়াতের আর্দশিক প্রচারণায় কারও বাধা দেওয়ার এখতিয়ার নেই। নির্বাচনী প্রচারণায় বাধা দিলে কিংবা নারীদের লাঞ্ছিত করলে প্রতিরোধ করা হবে।’
এ সময় নতুন ফ্যাসিস্টরা গণভোটের বিপক্ষে প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘গণভোটে হ্যাঁ এর জয়ী হলে ফ্যাসিবাদ, জবরদখল, চাঁদাবাজি চলবে না। ১৮ কোটি মানুষ পরিবর্তন দেখতে চায়। তবে হ্যাঁ ভোট বিজয়ী না হলে সরকার গঠন করে কোনো কাজে আসবে না।’
ক্ষমতায় গেলে যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রতিশ্রতি দিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘জনতার স্বার্থ রক্ষায় দাঁড়িপাল্লার মাপে কোনো হেরফের হবে না।এই দেশে জনগণের রাজনীতি হবে, পরিবার বা দলের নয়।’
নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে জামায়াতকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে অন্যতম মজলুম দল জামায়াত। ১৭ বছর নির্যাতিত অবস্থাতেও মানুষের পাশে ছিল দলটি।’
এ সময় গোটা বাংলাদেশকে বিভিন্ন সিন্ডিকেট আঁকড়ে ধরেছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘ক্ষমতায় গেলে সব সিন্ডিকেটের মূলোৎপাটন করা হবে। বেকার ভাতা নয়, বেকারদের দক্ষ করে কর্মমুখী করতে চাই। নারীদের জন্য পৃথক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও গণ শৌচাগারের ব্যবস্থা করা হবে। সব ধর্মের জন্য নিরাপত্তার দুয়ার খুলে দেওয়া হবে।’
জনসভায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন।