ঢাকা মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬, ৩ ভাদ্র ১৪৩৩

বিহারের মন্দিরে পদদলিত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু

বিহারের মন্দিরে পদদলিত হয়ে ৭ জনের মৃত্যু

সময় সংবাধ লাইভ রিপোর্ট: ভারতের বিহার রাজ্যের লাখিসরাই জেলায় একটি মন্দিরের বাইরে ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি ও পদদলনের ঘটনায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। সোমবার সকালে অশোক ধাম মন্দিরের বাইরে এ ঘটনা ঘটে। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মন্দিরের কাছে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে পড়ার পর ভিড়ের মধ্যে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে পড়ে গেছে এমন গুজবের ছড়িয়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরপরই তীব্র হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সময় মন্দিরে বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়েছিল। পবিত্র শ্রাবণ মাসের তৃতীয় সোমবার হওয়ায় সকাল থেকেই অশোক ধাম মন্দিরে ভক্তদের ব্যাপক ভিড় ছিল।

ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। আহতদের চিকিৎসার জন্য স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী ঘটনাটিকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে উল্লেখ করেছেন। আহতদের দ্রুত ও যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি নিহত প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ৪ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

লাখিসরাইয়ের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শৈলেন্দ্র কুমার জানান, ভক্তদের অস্বাভাবিক ভিড় এবং সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টার মধ্যে দুটি ট্রেন এসে পৌঁছানোর কারণে মন্দিরের সামনে মানুষের চাপ আরও বেড়ে যায়। একপর্যায়ে ভিড়ের চাপে ব্যারিকেডের একটি অংশ ভেঙে পড়ে এবং মানুষ একে অপরের ওপর পড়ে যান।

তিনি বলেন, এরপর হঠাৎ একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে যায়। খুঁটিটি পুরুষদের সারির ডান পাশে ছিল। খুঁটি পড়ে যাওয়ার পর সেখানে থাকা লোকজনের ওপর বিদ্যুতের তার পড়ে গেছে এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সেটি বৈদ্যুতিক তার নয়, বরং একটি কেবল তার ছিল বলে জানান তিনি।

গুজবের কারণে বাম পাশে থাকা নারীদের সারিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে ভিড়ের চাপে নারীরা একে অপরের ওপর পড়ে যান। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট জানান, রাত ৩টা থেকেই পুলিশ ও প্রশাসনের সদস্যরা সেখানে দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

লাখিসরাইয়ের মহকুমা পুলিশ কর্মকর্তা শিবম কুমার জানান, প্রাথমিক প্রতিবেদনে বৈদ্যুতিক খুঁটি পড়ে যাওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। এর ফলে কেউ বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েছেন কি না এবং তা থেকে পদদলনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে সব তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। তদন্ত শেষ হওয়ার পরই দুর্ঘটনার সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত