ঢাকা সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩
সংবাদ শিরোনামঃ

প্রথম স্ত্রীসহ গাজী নজরুলকে ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

প্রথম স্ত্রীসহ গাজী নজরুলকে ৭ দিনের রিমান্ডে চায় পুলিশ

সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্ট: দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় জামায়াতে ইসলামীর বিতর্কিত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগমের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছেন পুলিশ।

আজ সোমবার ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানার ওই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের এসআই মো. শামসুজ্জোহা সরকার এই রিমান্ড আবেদন করেছেন। ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে এই রিমান্ড আবেদনের ওপর শুনানি হবে। তবে এখন পর্যন্ত নজরুল ইসলাম ও মাকমুদা বেগমকে আদালতে হাজির করা হয়নি। তাদের আনার পর শুনানি হবে। এর আগে গতকাল রোববার গভীর রাতে মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলাটি করেন। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম, তার প্রথম স্ত্রী মাকসুদা বেগম ও নজরুলের শ্যালক ওবায়দুল রহমানকে আসামি করা হয়। মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও মাকসুদা বেগমকে ইতোমধ্যেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। উল্লেখ্য, রোববার সন্ধ্যায় ন্যাম ভবনের ৫ নম্বর ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়ম খাতুনের (১৯) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাটটি গাজী নজরুলের। তিনি এই ফ্ল্যাটে তার প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে থাকতেন।

গতকাল ফ্ল্যাটটির একটি কক্ষের দরজা ভেঙে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় মরিয়ম খাতুনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ, সিআইডি, পিবিআই ও ডিবির দল ঘটনাস্থলে যায়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। মামলায় বলা হয়, সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা গ্রামের এস এম মাসুম বিল্লাহ পেশায় একজন মুদি দোকানদার। তার বড় মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে গত জুনে ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক সংসদ সদস্য নজরুলের (৭৫) বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই ন্যাম ভবনের বাসায় নজরুল তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মকে নিয়ে বসবাস করতেন। বাসায় তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা ইসলামও (৬৫) একসঙ্গে থাকেন। আসামি ওবায়দুল রহমানের (৩৮) প্রত্যক্ষ প্ররোচনায় এই বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তার প্রথম স্ত্রী বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মরিয়মকে শারীরিক–মানসিক নির্যাতন করতেন। নির্যাতনের বিষয়টি মরিয়ম বিভিন্ন সময় মোবাইল ফোনে তার পরিবারকে জানাতেন। মামলায় বলা হয়, গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে নজরুল ইসলাম মরিয়মের বাবাকে ফোন করে দ্রুত ন্যাম ভবনের বাসায় যেতে বলেন। খবর পেয়ে মরিয়মের বাবা তার শ্যালিকা সুফিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছান। দেখতে পান, বাসায় অনেক মানুষের ভিড়। পরে তিনি জানতে পারেন, বাসার ভেতরের রুমে ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে মরিয়ম ঝুলে আছেন। রুমের দরজা ভেতর থেকে লাগানো ছিল। পরে শেরেবাংলা নগর থানা-পুলিশের সহায়তায় ও উপস্থিত লোকজনের মাধ্যমে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মরিয়মের মরদেহ ওড়না দিয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। এ সময় মরিয়মের বিছানার ওপর থেকে একটি ‘সুসাইড নোট’ উদ্ধার করে পুলিশ। গাজী নজরুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর মনোনয়নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত জুলাইয়ে তার ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে এক তরুণীর সঙ্গে তাকে দেখা যায়। পরে গাজী নজরুল ইসলাম জানান, ওই তরুণী তার দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুন। এরপর গত ২২ জুলাই জামায়াতে ইসলামী গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করে। দলটির পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি দেওয়া হয়।


আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত