সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্ট: ভারতের ভোটার তালিকা সংশোধনকে কেন্দ্র করে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বড় ধরনের বিক্ষোভ হয়েছে। রোববার কংগ্রেস নেতা ও বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে হাজারো মানুষ এ বিক্ষোভে অংশ নেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে বিরোধীদের এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আন্দোলনের সর্বশেষ কর্মসূচি এটি। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বিপুলসংখ্যক নাম বাদ দেওয়ার এই প্রক্রিয়া মোদির হিন্দুত্ববাদী দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নির্বাচনী সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন তারা।
দিল্লির ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে রাহুল গান্ধী বলেন, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া ভারতের প্রতিটি নাগরিকের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়ার শামিল। নির্বাচন কমিশন প্রধানকে পদ ছাড়তে হবে এবং দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার প্রথম পদক্ষেপ হবে তার অপসারণ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ১৩ কোটির বেশি নাম বাদ পড়েছে, যা জাপানের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। বিরোধীদের দাবি, বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে মুসলিম ও অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি।
তবে নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভুয়া, দ্বৈত ও অযোগ্য ভোটারদের বাদ দিয়ে তালিকা হালনাগাদ করাই এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য। ভুলবশত যাদের নাম বাদ পড়েছে, তারা পুনরায় নিবন্ধন করতে পারবেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি। বিজেপিও বিরোধীদের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, বৈধ নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে গণতন্ত্রকে দুর্বল করার চেষ্টা চলছে।
বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়। রামলীলা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় শত শত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয় এবং যান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়।
অন্যদিকে ভারতের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎ প্রকাশ নাড্ডা এই বিক্ষোভকে ‘পরিকল্পিত নাটক’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, গণতন্ত্রের নামে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র চলছে।
গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক বিক্ষোভ করে আসছে বিরোধী দল, শিক্ষার্থী সংগঠন ও বিভিন্ন নাগরিক গোষ্ঠী। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে ভোটার তালিকা সংশোধন, নিবন্ধন পদ্ধতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই উপপ্রধানের অভ্যন্তরীণ উদ্বেগের বিষয়টি প্রকাশের পর আন্দোলন আরও জোরালো হয়।