ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিপন হোসেন এ আসামির জামিনের আবেদন নামন্জুর করে কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দিয়েছেন।
২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমো পরিবারের সঙ্গে বাড্ডার বাসায় থাকতেন। গতকাল রোববার সকালে নিজের ঘর থেকে তার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
তার কক্ষ থেকে একটি চিরকুট পাওয়া যায়। সেখানে লেখা ছিল, সুদীপ স্যারকে ৫০ হাজার টাকা দিতে হবে। হানি আর সুদীপ স্যার ভালো থাকো। স্যারের দেওয়া গিফটগুলো ফেরত দেওয়া...।”
ঘটনার পর দুপুরের দিকে শিক্ষার্থীর বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলার পরে সুদীপকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার এসআই কাজী ইকবাল হোসেন আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উত্তর বাড্ডার এলাকায় অভিযান পচিালনা করে রোববার বিকেল ৩টা ২০ মিনিটের দিকে সুদীপকে আটক করা হয়। পরে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে আসামির বিরুদ্ধে মামলার ঘটনায় জড়িত থাকার ‘তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে’। তাই ন্যায় বিচারের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখা দরকার।
সুদীপের পক্ষে আইনজীবী ফুল মোহাম্মদ জামিন চেয়ে শুনানিতে বলেন, মামলাটা আত্মহত্যায় প্ররোচনার। আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি রাত একটার দিকে ভিকটিমের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলেন। আসামি একজন ভদ্রলোক, ভালো একজন সহযোগী অধ্যাপক। উনাকে কেন যে মামলায় জড়াল। তদন্তের প্রাথমিক স্টেজে রয়েছে মামলাটি। জামিন দিলে অপব্যবহার করবেন না।
শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামন্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।