সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্ট: জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) সংশোধন আবেদনে জালিয়াতি ঠেকাতে নতুন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন নিয়মে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হবে।
এ ব্যবস্থা কার্যকর করতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে আলোচনা করছে ইসি।
ইসি সূত্র জানায়, বর্তমানে ফেস ভেরিফিকেশন বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নাগরিকেরা এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে পারেন। তবে প্রযুক্তির অপব্যবহার করে প্রতারক চক্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির উপস্থিতি ছাড়াই তাঁর পরিচয়ে সংশোধনের আবেদন করছে। এ ধরনের জালিয়াতি বন্ধ করতেই নতুন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
ইসির পরিকল্পনা অনুযায়ী, কোনো নাগরিকের নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর না থাকলে তিনি এনআইডি সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন না।
এ জন্য বিটিআরসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেসের (এপিআই) মাধ্যমে আবেদনকারীর মোবাইল নম্বর যাচাইয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইসি সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে সর্বোচ্চ আটটি এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যায়। তবে নিজের নামে নিবন্ধিত নম্বর দিয়ে আবেদন করার নিয়ম চালু হলে যার এনআইডি সংশোধন করা হবে, আবেদন করতে হবে তাঁর নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর থেকেই। অর্থাৎ একটি নম্বর দিয়ে কেবল একজনের এনআইডি সংশোধনের আবেদন করা যাবে।
এদিকে বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকেরা যাতে এনআইডি সংশোধনসংক্রান্ত সেবা নিতে পারেন, সে জন্য তাঁদের জন্য পৃথক কোনো ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা নিয়েও ভাবছে নির্বাচন কমিশন।
এ বিষয়ে ইসির এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, বিটিআরসির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষ হলে এনআইডি সংশোধনের আবেদনে আবেদনকারীর নিজের নামে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহারের পদ্ধতি চালু করা হবে।
এদিকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন ও সংশোধন কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সহজ করতে প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাইয়ের উদ্যোগও নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ লক্ষ্যে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য বিটিআরসিসহ নয়টি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এপিআই সংযোগ স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা চলছে।
ইতোমধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ), বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি), জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি), ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন শাখা এবং আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন নিবন্ধন অধিদপ্তরের বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন বিভাগ।