ঢাকা সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩
সংবাদ শিরোনামঃ

আল্লাহর দেওয়া যে দুই নেয়ামত অবহেলা করেন অনেকে

আল্লাহর দেওয়া যে দুই নেয়ামত অবহেলা করেন অনেকে

সময়  সংবাদ লাইভ রিপোর্ট: মানুষের জীবনে আল্লাহ তাআলার অসংখ্য নেয়ামতের মধ্যে সুস্থতা ও অবসর সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ব্যস্ততার বাইরে পাওয়া এই সময় কিংবা সুস্থ শরীরের মূল্য অনেকেই উপলব্ধি করেন না। ফলে অজান্তেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ অনর্থক কাজে ব্যয় হয়ে যায়।

শায়খ আব্দুল কাইয়ুমের এক বক্তব্যে অবসর সময় ও সুস্থতাকে আল্লাহর বিশেষ নেয়ামত হিসেবে উল্লেখ করে এগুলোর যথাযথ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বক্তব্যে বলা হয়, মানুষের জীবন মূলত সময়েরই সমষ্টি। দিন, মাস ও বছর পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবন থেকেও একটি একটি অংশ কমে যাচ্ছে। তাই অবহেলায় সময় কাটানো মানে নিজের জীবন থেকেই একটি অংশ নষ্ট করা।

অবসর সময়কে কীভাবে কাজে লাগানো উচিত, সে বিষয়েও ইসলামে দিকনির্দেশনা রয়েছে। একজন মুমিনের হাতে কাজ না থাকলে সময়কে সম্পূর্ণ অর্থহীনভাবে কাটিয়ে না দিয়ে কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, দোয়া কিংবা নফল নামাজের মতো ইবাদতে মনোযোগ দিতে পারেন। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সময় দেওয়া এবং প্রয়োজনীয় দুনিয়াবি কাজ করাও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর একটি হাদিসে পাঁচটি বিষয়কে পাঁচটি বিষয় আসার আগেই মূল্যবান মনে করে কাজে লাগানোর কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বার্ধক্যের আগে যৌবন, অসুস্থতার আগে সুস্থতা, ব্যস্ততার আগে অবসর, দারিদ্র্যের আগে স্বচ্ছলতা এবং মৃত্যুর আগে জীবন। অর্থাৎ সুযোগ চলে যাওয়ার আগেই তা ভালো কাজে ব্যবহার করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কারণ, মানুষ সুস্থ থাকা অবস্থায় যে কাজগুলো সহজে করতে পারে, অসুস্থ হয়ে পড়লে সেগুলোর অনেক কিছুই আর সম্ভব হয় না। একইভাবে অতিরিক্ত ব্যস্ততা শুরু হয়ে গেলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক ভালো কাজের জন্য সময় বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বক্তব্যে ইমাম হাসান বসরির (রহ.) একটি উক্তিও তুলে ধরা হয়। তিনি মানুষকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন যে, প্রতিটি দিন চলে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জীবনের একটি অংশও শেষ হয়ে যায়। তাই এমন কোনো দিন যেন না যায়, যেদিন নিজের নেক আমল বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়নি।

এ প্রসঙ্গে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর একটি বক্তব্যও উল্লেখ করা হয়। তিনি এমন দিনের জন্য আফসোস করতেন, যে দিন সূর্য অস্ত গেলেও তার আমলে কোনো বৃদ্ধি ঘটেনি।

তবে ইসলামে ইবাদত বলতে শুধু নামাজ, জিকির বা তিলাওয়াতকেই বোঝানো হয় না। সঠিক নিয়ত থাকলে পরিবারের দেখাশোনা, জীবিকা অর্জনসহ বৈধ দুনিয়াবি কাজও সওয়াবের কারণ হতে পারে। তাই সারাক্ষণ ইবাদতে থেকে পরিবারের অধিকার উপেক্ষা করাও ইসলামের শিক্ষা নয়।

হজরত মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)-এর প্রসঙ্গ টেনে বক্তব্যে বলা হয়, একজন মুমিনের নিয়ত এমন হওয়া উচিত যে, ইবাদতের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করাও যেন তার নেক আমলের অংশ হয়ে যায়। এমনকি পর্যাপ্ত ঘুমের মাধ্যমে শরীরকে পরবর্তী ইবাদতের জন্য প্রস্তুত করাও ভালো নিয়তের কারণে সওয়াবের কাজ হতে পারে।

সব মিলিয়ে, সুস্থতা ও অবসরকে অবহেলা না করে সেগুলোকে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের কাজে ব্যবহার করাই একজন মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের হিসাব একদিন দিতে হবে তাই সময় চলে যাওয়ার আগে সেটিকে অর্থবহ করে তোলার চেষ্টা করা উচিত।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত