সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্ট: রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিএনপি হাইকমান্ডসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। দলটির ভেতরে-বাইরে এবং রাজনৈতিক মহলেও রাষ্ট্রপতি প্রার্থী নিয়ে গুঞ্জনের শেষ নেই। সবার আগ্রহের বিষয় কে হচ্ছেন দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি, যা আজকেই স্পষ্ট হয়ে যাবে। লুকোচুরির কিছু নেই, যেহেতু রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিধি অনুযায়ী প্রার্থীকে মনোনয়নপত্রে সম্মতিসূচক স্বাক্ষর প্রদান করতে হয়। এসব কিছু চূড়ান্ত করেই দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। সেই লক্ষ্যে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডেকেছে দলটি। বাংলাদেশ সচিবালয়ে দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে স্থায়ী কমিটির বৈঠকে চূড়ান্ত করা হবে দলের পক্ষে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী। একই সঙ্গে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী যিনি হচ্ছেন তিনি যদি দলীয় পদে, মন্ত্রিসভায় কিংবা সংসদ সদস্য হয়ে থাকেন সব জায়গা থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে হবে। যার পরিপ্রেক্ষিতে বৈঠক শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম জানাবে বিএনপি। ঘোষণার পরপরই নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়সীমার আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে তার মনোনয়নও জমা দেওয়া হবে। বিএনপির একাধিক স্থায়ী কমিটির সদস্য আমাদের সময়কে এমনটাই নিশ্চিত করেছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি মনোনয়ন ইস্যুতে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্থায়ী কমিটির প্রত্যেক সদস্যের পৃথক পৃথক মতামত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। স্থায়ী কমিটির প্রত্যেক সদস্য রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষেই মতামত দিয়েছেন। একই সঙ্গে সদস্যরা চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে আলাপকালে মতামত দেন; মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যদি রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হন তাহলে দল ও সরকারের বেশ কয়েকটি স্থানে পরিবর্তন আনতে হচ্ছে। পদত্যাগ করতে হবে দলীয় মহাসচিব, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদ থেকে। দল ও সরকারের বিকল্প থাকলেও বিশেষ করে সরকারকে এই মুহূর্তে উপনির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সেই বিষয়টিও ভেবে বিকল্প রাখার পরামর্শ উঠে আসে। সেক্ষেত্রে মির্জা ফখরুলের পাশাপাশি নজরুল ইসলামের নামও আলোচনায় উঠে আসে।
এদিকে ইতোমধ্যে বিএনপি দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। তবে এখনও প্রার্থী চূড়ান্ত করার বিষয়টি জানায়নি ক্ষমতাসীন দলটি। পূরণ করা মনোনয়নপত্র আজ বিকাল ৪টার মধ্যে নির্বাচন ভবনে নির্বাচনী কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দিতে হবে। ফলে বিএনপি যদি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীর নাম ঘোষণা নাও দেন তবুও নির্বাচন কমিশন থেকে জানা যাবে, কে হতে যাচ্ছেন দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি। তবে সংসদে সংখ্যগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থীই বিজয়ী হতে যাচ্ছেন। তবে দলের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, গতকাল বুধবার মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দলের হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার জন্য মানসিকভাবে তৈরি থাকতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে দল, সরকার এবং জাতীয় সংসদ সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগের জন্য প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন ঘোষিত (ইসি) তফসিল অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন আজ বৃহস্পতিবার। এদিন সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট। ভোটগ্রহণ হবে ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে। চট্টগ্রাম-৪ আসনটি বর্তমানে শূন্য থাকায় ভোট দেবেন জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। ১৯৯১ সালের পর এবারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির পাশাপাশি জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যও প্রার্থী দিয়েছে। এ জোট সাবেক বিএনপি নেতা কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। তার পক্ষে মনোনয়ন সংগ্রহ করেছে জামায়াত জোট। মূলত গত ২৪ জুলাই ২২তম রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেন। এরপর ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণের তারিখ রেখে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইসি।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানান, ব্যালট পেপারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নাম থাকবে। সংসদ সদস্যরা পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করে ব্যালট নির্ধারিত বাক্সে জমা দেবেন। ভোটগ্রহণের শুরুতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। মোট ৩৪৯টি ব্যালটের মধ্যে কতটি বৈধভাবে জমা পড়েছে এবং প্রার্থীরা কত ভোট পেয়েছেন, তা গণনার পর নির্বাচনী কর্মকর্তা হিসেবে সিইসি ফল ঘোষণা করবেন।
এদিকে গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতির বিষয়ে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সরকারের তথ্যসম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন আশা প্রকাশ করে বলেন, ‘বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হবেন জনগণের কাক্সিক্ষত একজন ব্যক্তিত্ব, যার ওপর দেশের সাধারণ মানুষ পূর্ণ আস্থা রাখতে পারবে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এমন একজন রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন, যিনি দলীয় সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। আপৎকালীন বা বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি যেন যে কোনো রাজনৈতিক সংকট মোকাবিলায় ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রেখে স্বাধীন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। যেহেতু সংবিধানে রাষ্ট্রপতি পদটি দেশের সর্বোচ্চ নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান। তাই নির্বাচিত ব্যক্তি যেন ক্ষমতাসীন দলের অন্ধ অনুগত না হয়ে দেশের স্বার্থকে প্রাধান্য দেন। সেক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও সমাজের সব মহলে গ্রহণযোগ্যতা থাকা আবশ্যক, পাশাপাশি দেশের গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং সাংবিধানিক ধারা সমুন্নত রাখতে পারে এমন ব্যক্তিত্বকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দেখতে চান তারা।