সময় সংবাদ লাইভ রিপোর্ট: ইরানের গুরুত্বপূর্ণ লারাক দ্বীপে দেশটির দুটি ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। গত জুলাইয়ের পর ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের এটিই প্রথম হামলা বলে জানিয়েছে মার্কিন কর্মকর্তারা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র কমান্ডার টিম হকিন্সকে উদ্ধৃত করে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) বাহিনীকে হরমুজ প্রণালিতে রকেট ও সমুদ্র মাইন নিক্ষেপের প্রস্তুতি নিতে দেখা গিয়েছিল। সেই কারণেই লারাক দ্বীপে হামলা চালানো হয় বলে দাবি যুক্তরাষ্ট্রের।
ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় দুইজন নিহত ও দুইজন আহত হয়েছেন। হামলার প্রতিশোধ নেওয়ারও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে আইআরজিসির বরাত দিয়ে বলা হয়, লারাক দ্বীপে হামলার জবাবে জর্ডানে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান।
তবে জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ভোরে তাদের আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেত্রা নিউজ এজেন্সি জানায়, জর্ডানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এসব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করে।
লারাক দ্বীপটি ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগরী বান্দার আব্বাসের অদূরে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ঠিক পাশে অবস্থিত। বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহন করা হতো।
বর্তমানে ইরান ট্যাংকারগুলোকে লারাক দ্বীপের পাশ দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য করছে এবং জাহাজগুলো পরীক্ষা করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার জন্য প্রায় ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত অর্থ আদায় করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেবি মার্কিন হামলাকে ট্রাম্প প্রশাসনের ‘কৌশলগত ও মারাত্মক ভুল’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, এই ভুল হিসাবের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অর্থনৈতিক ও সামরিক দুই দিক থেকেই মূল্য দিতে হবে।
ইরানের আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লারাক দ্বীপে হামলাটি ড্রোনের মাধ্যমে চালানো হয়েছিল।
লারাক হামলার কয়েক ঘণ্টা পর আইআরজিসি দাবি করে, তারা জর্ডানে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের কিং হুসেইন ও আল-আজরাক সামরিক ঘাঁটিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে।
আইআরজিসির দাবি, হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং মার্কিন বাহিনীর প্রযুক্তিগত অবকাঠামো, রক্ষণাবেক্ষণ স্থাপনা ও যুদ্ধবিমান অবস্থান লক্ষ্য করা হয়েছে।
তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে এসব দাবি যাচাই করা যায়নি।
এদিকে হামলার কয়েক ঘণ্টা পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তেল অবকাঠামো বিস্ফোরণের কিছু ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওগুলোর একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে তৈরি বলে প্রতীয়মান হয়। সেটির ক্যাপশনে ট্রাম্প লেখেন, ‘খার্গ দ্বীপকে টুকরো টুকরো করে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।’ ইরানের গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের প্রতি ইঙ্গিত করে।
এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে ইরান নতুন করে কোনো মাইন পেতে রাখলে সংশ্লিষ্ট জাহাজ বা নৌযান ধ্বংস করা হবে। গত সপ্তাহে তিনি দাবি করেছিলেন, ইরান প্রণালিতে যেসব মাইন পেতেছিল, সেগুলোর সবই বিস্ফোরিত বা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
তবে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি ট্রাম্পের ওই দাবিকে ‘প্রচারমূলক প্রতারণা’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন।